রাজশাহীর বাঘায় বেড়েছে শীতের তীব্রতা। প্রতিদিন সকাল থেকেই ঘন কুয়াশায় আচ্ছন্ন থাকে পুরো এলাকা। আবহাওয়া অফিস জানায় গত বৃহস্পতিবার রাজশাহীতে সূর্যোদয় হয় সকাল ৬টা ৪৫ মিনিটে। তবে সকাল ৮টা পর্যন্ত সূর্যের দেখা মেলেনি। ভোরের ঘন কুয়াশায় চারপাশ ঢেকে যাওয়ায় সড়কে যানবাহনগুলোকে ফগ লাইট জ্বালিয়ে চলাচল করতে দেখা গেছে। সূর্যের অনুপস্থিতি সাথে হিমেল বাতাসে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে সাধারণ মানুষ।
রাজশাহী আবহাওয়া অফিস আরও জানায়, আগামী কয়েক দিনে তাপমাত্রা আরও কমতে পারে। ফলে শীতের তীব্রতা আরও বাড়ার আশঙ্কা রয়েছে। বিশেষ করে দিনে সর্বোচ্চ ও সর্বনিম্ন তাপমাত্রার ব্যবধান কম থাকায় শীত বেশি অনুভূত হচ্ছে। বুধবার (২৪ ডিসেম্বর) রাজশাহীতে দিনের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ছিল ২২ ডিগ্রি এবং সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ছিল ১২ দশমিক ৩ ডিগ্রি সেলসিয়াস। এদিন তাপমাত্রার ব্যবধান ছিল ৯ দশমিক ৭ ডিগ্রি। ২৬ তারিখ থেকে বহু প্রতীক্ষার পর বেলা সাড়ে ১০ টার পর দেখা মিলছে সূর্য মামার।
শীতের এই তীব্রতায় সবচেয়ে বেশি দুর্ভোগে পড়েছে নিম্ন ও মধ্যবিত্ত খেটে খাওয়া মানুষ। কুয়াশা ও ঠান্ডা উপেক্ষা করেই জীবিকার তাগিদে ভোরে ঘর ছাড়তে হচ্ছে তাদের। ভোর বেলায় কর্মস্থান যাওয়ার পথে রাস্তার একপাশে থেমে আগুন জ্বালিয়ে শরীর টা একটু গরম করে আবার রওনা হয় কাজের দিকে। এদিকে শীত বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে ফুটপাতের দোকানগুলোতে গরম কাপড়ের কেনাবেচাও বেড়েছে। বাঘা উপজেলার ঐতিহাসিক শাহী মসজিদ পাঙ্গনের তেঁতুলতালায় লক্ষ করা যায় গরম কাপড় ক্রেতাদের ভীড়, এছাড়াও উপজেলার বিপনী বিতান গুলোতেও দেখা গেছে গরম কাপড় ক্রেতাদের হিড়িক। বিপনী বিতান গুলো বলছে এবছরে শীত বেশি হওয়ায় বিক্রি বেশ বেড়েছে।
রাজশাহী আবহাওয়া অফিসের আবহাওয়া সহকারী তারেক আজিজ জানান, রাজশাহীতে বর্তমানে মৌসুমের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ১০ দশমিক ২ ডিগ্রি সেলসিয়াস রেকর্ড করা হয়েছে। একই সঙ্গে বাতাসের আর্দ্রতা শতভাগ রয়েছে, যা শীতের অনুভূতিকে আরও বাড়িয়ে তুলছে।
মন্তব্য