রাজশাহীর পুঠিয়া উপজেলায় স্থানীয় সরকার প্রকৌশলী বিভাগ (এলজিইডি) বাস্তবায়নাধীন খাল পুনঃখনন কাজে অনিয়ম, দুর্নীতি ও স্বেচ্ছাচারিতার অভিযোগ উঠেছে। প্রায় ৩৭ লাখ টাকা ব্যয়ে ১ দশমিক ৮ কিলোমিটার খাল পুনঃখনন করা হলেও সরকারি নকশা ও পরিকল্পনা মানা হচ্ছে না বলে অভিযোগ এলাকাবাসীর।
এলজিইডি অফিস সূত্রে জানা গেছে, কয়েক বছর ধরে বর্ষা মৌসুমে উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হচ্ছে। অপরিকল্পিতভাবে পুকুর খননের ফলে পানি নিষ্কাশনের স্বাভাবিক পথ বন্ধ হয়ে যাওয়ায় এ অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে। জলাবদ্ধতা নিরসনের লক্ষ্যে এলজিইডির সারা দেশে পুকুর-খাল খনন প্রকল্পের আওতায় সৈয়দপুর-বিদিরপুর খাল থেকে ধোকড়াকুল এলাকার চন্দ্রবতী বিল পর্যন্ত খাল পুনঃখননের কাজ শুরু করা হয়।
তবে স্থানীয়দের অভিযোগ, প্রকল্প বাস্তবায়নে ব্যাপক অনিয়ম করা হচ্ছে। চন্দ্রবতী বিলের বরেন্দ্র সেচ পাম্পের ম্যানেজার হাবিবুর রহমান হাবিব বলেন, খালটি যেখানে শুরু হওয়ার কথা, সেখান থেকে কাজ শুরু না করে বিলের ভেতরে খনন করা হচ্ছে। ফলে ইতোমধ্যে খালের বিভিন্ন অংশ ভরাট হয়ে গেছে। এভাবে কাজ করলে বিল এলাকার পানি নিষ্কাশনের কোনো সুফল পাওয়া যাবে না।
স্থানীয় বাসিন্দা আয়নাল হক ও আব্দুল সালাম অভিযোগ করে বলেন, সরকারি নকশা অনুযায়ী খালটির গতিপথ মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা আ ফ ম হাসানের পুকুরের মাঝ দিয়ে যাওয়ার কথা থাকলেও পুকুরের ভেতর দিয়ে খনন না করে পাশ দিয়ে খাল খনন করা হচ্ছে। এতে নকশা লঙ্ঘন করা হয়েছে।
অপরদিকে আঃ রশিদ শাহ ও ফয়সাল আহম্মদ বলেন, ব্যক্তিগত জমির মধ্য দিয়ে অবৈধভাবে খালের গতিপথ পরিবর্তন করা হয়েছে। এ বিষয়ে কোনো লিখিত দলিল বা আইনগত অনুমোদন নেওয়া হয়নি। এতে খাল পুনঃখননের উদ্দেশ্য ব্যাহত হবে এবং বরং জলাবদ্ধতা আরও বাড়বে।
এলাকাবাসীরা দ্রুত সরকারি নকশা অনুযায়ী খাল পুনঃখননের দাবি জানিয়েছেন।
এ বিষয়ে পুঠিয়া উপজেলা প্রকৌশলী মো. পারভেজ নেওয়াজ খান বলেন, এলাকাবাসীরা চাইলে পুকুর মালিকের কাছ থেকে প্রয়োজনীয় দলিল নেওয়া হবে। কোনো মানুষের ক্ষতি না করে খালটি পুনঃখননের চেষ্টা করা হচ্ছে।
মন্তব্য