হবিগঞ্জের বানিয়াচং উপজেলায় একাধিক ডাকাত নিহত হওয়ার পরও চুরি, ছিনতাই ও ডাকাতির ঘটনা থামেনি। সর্বশেষ শনিবার গভীর রাতে উপজেলার পুরান ভাগ মহল্লায় ডাকাতির চেষ্টা চালাতে গিয়ে জনতার হাতে আটক হয়েছে কুখ্যাত ডাকাত জুসেদ মিয়া (৩০)। পরে গণধোলাই দিয়ে তাকে বানিয়াচং থানায় সোপর্দ করা হয়।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, জুসেদ মিয়া বানিয়াচং উপজেলার ৪ নম্বর দক্ষিণ-পশ্চিম ইউনিয়নের মাদারীটুলা মহল্লার বাসিন্দা। তিনি পুলিশের সঙ্গে বন্দুকযুদ্ধে নিহত সাইফুল ইসলাম (৩৫) ওরফে ‘ঝিলকি’ ডাকাতের ঘনিষ্ঠ সহযোগী হিসেবে পরিচিত। ঝিলকিসহ তার আরও তিন সহযোগী ইতোমধ্যে নিহত হলেও জুসেদের অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড থামেনি বলে অভিযোগ এলাকাবাসীর।
শনিবার (৩১ জানুয়ারি) গভীর রাতে বানিয়াচং উপজেলা সদরের ৩ নম্বর দক্ষিণ-পূর্ব ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ডের পুরান ভাগ মহল্লায় ফাতেমা বেগম নামের এক গৃহকর্মীর বাড়িতে ডাকাতির চেষ্টা চালায় জুসেদ ও তার সহযোগীরা। এ সময় বাড়ির লোকজন টের পেয়ে চিৎকার করলে ডাকাতরা পালিয়ে যায়। তবে এলাকাবাসী জুসেদকে চিনে ফেলেন।
এরপর সকাল পর্যন্ত মহল্লার বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজির একপর্যায়ে এলাকাবাসী লুকিয়ে থাকা জুসেদকে আটক করে। পরে তাকে রশি দিয়ে বেঁধে মহল্লার ভেতরে নিয়ে আসা হলে উত্তেজিত জনতা তাকে গণধোলাই দেয়।
এলাকাবাসীর অভিযোগ, ঝিলকি নিহত হওয়ার পরও জুসেদ নতুন নতুন চোর, ডাকাত ও মাদকসেবীদের সংগঠিত করে বানিয়াচংসহ আশপাশের এলাকায় চুরি, ছিনতাই ও ডাকাতির ঘটনা ঘটিয়ে আসছিল। এমনকি জেলার বিভিন্ন উপজেলা থেকে চিহ্নিত অপরাধীদের এনে অপরাধ কর্মকাণ্ড পরিচালনা করছিল বলেও অভিযোগ রয়েছে।
জানা গেছে, জুসেদের বিরুদ্ধে বানিয়াচং থানায় মাদক, চুরি, ছিনতাই ও ডাকাতিসহ একাধিক মামলা রয়েছে। এর আগে একাধিকবার গ্রেপ্তার হয়ে কারাভোগ ও জামিনে মুক্ত হয়ে আবারও অপরাধে জড়িয়ে পড়েন তিনি। সর্বশেষ সাগরদিঘীর পূর্বপাড় এলাকা থেকে একটি মিশুক চুরির ঘটনায় আটক হয়ে কারাভোগ করেন।
এ বিষয়ে বানিয়াচং থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) শরীফ আহমেদের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তবে পুলিশ সূত্রে নিশ্চিত করা হয়েছে, আটককৃত জুসেদকে থানায় সোপর্দ করা হয়েছে এবং আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ প্রক্রিয়াধীন।
এলাকাবাসী প্রশাসনের কাছে চিহ্নিত ডাকাত ও মাদক কারবারিদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।
মন্তব্য