আত্রাই উপজেলার বিস্তীর্ণ মাঠে এখন দোল খাচ্ছে পাকা বোরো ধান। কৃষকের চোখে-মুখে স্বস্তির হাসি থাকলেও বিরাজ করছে অনিশ্চয়তা। কালবৈশাখীর আশঙ্কায় দ্রুত ধান কাটা ও মাড়াই শেষ করতে ব্যস্ত সময় পার করছেন তারা। সময়মতো ফসল ঘরে তুলতে পারলে মিলবে বাম্পার ফলন, আর দেরি হলেই ক্ষতির আশঙ্কা—এমন বাস্তবতায় কৃষি বিভাগ ও কৃষকদের যৌথ তৎপরতা জোরদার হয়েছে।
উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, চলতি মৌসুমে উপজেলার ৮টি ইউনিয়নে ১৮ হাজার ৭১০ হেক্টর লক্ষ্যমাত্রার বিপরীতে প্রায় ১৮ হাজার ৬১০ হেক্টর জমিতে বোরো আবাদ হয়েছে। পাশাপাশি ভুট্টা আবাদ হয়েছে লক্ষ্যমাত্রার চেয়েও বেশি, ৫ হাজার ১১৫ হেক্টর জমিতে। ফসল ঘরে তুলতে মাঠে সক্রিয় রয়েছে ৮ হাজার ১৪০টি সেচযন্ত্র ও ৩ হাজার ৭২০টি পাওয়ার থ্রেসার।
ধান কাটা মৌসুমে জ্বালানি সংকট নিরসনে কৃষি বিভাগের উদ্যোগে চালু করা হয়েছে ‘ফুয়েল কার্ড’ ব্যবস্থা। ইতোমধ্যে ১ হাজার ৩৫০ জন কৃষকের মধ্যে এ কার্ড বিতরণ করা হয়েছে। এর মাধ্যমে কৃষকরা অনুমোদিত ফিলিং স্টেশন থেকে সেচ পাম্প, ট্রাক্টর, পাওয়ার টিলার ও থ্রেসারের জন্য ন্যায্যমূল্যে জ্বালানি সংগ্রহ করতে পারছেন। ফলে উৎপাদন ব্যয় কমছে এবং কাজের গতি বাড়ছে।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ প্রসেনজিৎ তালুকদার বলেন, বোরো মৌসুম কৃষকদের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সময়মতো জ্বালানি নিশ্চিত করতে না পারলে বড় ধরনের ক্ষতির মুখে পড়তে হয়। তাই মাঠপর্যায়ে সমন্বিতভাবে কাজ করা হচ্ছে। তিনি জানান, উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তারা নিয়মিত মাঠ তদারকি করছেন এবং ধান কাটা শুরুর আগেই তেল সরবরাহ ব্যবস্থা আরও সুসংগঠিত করা হবে।
কৃষি বিভাগ বলছে, প্রতিকূল আবহাওয়া মোকাবিলা করে সময়মতো ফসল ঘরে তুলতে পারলে চলতি মৌসুমে আত্রাইয়ে বাম্পার ফলনের সম্ভাবনা রয়েছে।
মন্তব্য