ফসল বাঁচাতে গিয়ে নিজেদেরই ঝুঁকির মুখে ঠেলে দিচ্ছেন কৃষকরা। রাজশাহীর পুঠিয়াসহ উত্তরাঞ্চলের বিস্তীর্ণ সবজি চাষের মাঠে এখন নিয়মিত ছবি, পিঠে স্প্রে মেশিন, হাতে পাইপ, আর শরীরে কোনও সুরক্ষা নেই। মুখে মাস্ক তো দূরের কথা, অনেকেই খালি গায়েই ছিটিয়ে চলেছেন একাধিক বিষাক্ত কীটনাশক।
স্থানীয় সূত্রে জানা যাচ্ছে, একসঙ্গে চার থেকে পাঁচ ধরনের রাসায়নিক মিশিয়ে স্প্রে করার প্রবণতা ক্রমশ বাড়ছে। দ্রুত ফলন আর পোকামাকড় দমনের তাড়নায় নিরাপত্তা বিধি কার্যত উপেক্ষিত।
মাঠে কাজ করা কৃষকদের একাংশ বলছেন, কীটনাশক যে ক্ষতিকর তা তাঁদের জানা। কিন্তু কীভাবে নিরাপদে ব্যবহার করতে হয়, সে বিষয়ে স্পষ্ট ধারণা নেই। আবার অনেকের বক্তব্য, সুরক্ষা সরঞ্জাম কিনে ব্যবহার করা ঝামেলার, তাই তা এড়িয়েই চলেন।
চিকিৎসকদের সতর্কবার্তা, এ ভাবে দীর্ঘদিন কীটনাশকের সংস্পর্শে থাকলে মাথা ঘোরা, শ্বাসকষ্ট, ত্বকের জ্বালা-পোড়া থেকে শুরু করে ক্যানসারের মতো গুরুতর অসুখের ঝুঁকি বাড়ে। ইতিমধ্যেই এমন উপসর্গ দেখা যাচ্ছে বলেও দাবি স্থানীয়দের একাংশের।
কৃষি দফতরের এক কর্মকর্তা জানান, নিরাপদ খাদ্য উৎপাদনের পাশাপাশি কৃষকের স্বাস্থ্য সুরক্ষাও সমান জরুরি। কিন্তু বাস্তবে সুরক্ষা সরঞ্জাম সরবরাহের জন্য নির্দিষ্ট কোনও সরকারি বরাদ্দ নেই।
বিশেষজ্ঞদের মতে, কীটনাশক ব্যবহারের আগে নির্দেশিকা পড়া, নির্ধারিত মাত্রা মেনে চলা এবং মাস্ক-গ্লাভস-সুরক্ষা পোশাক ব্যবহার করা অত্যন্ত প্রয়োজন। পাশাপাশি স্প্রে শেষে হাত-মুখ পরিষ্কার করা এবং ব্যবহৃত পোশাক আলাদা করে ধোয়ার পরামর্শও দিচ্ছেন তাঁরা।
কৃষি পণ্যের ভোক্তাদের আশঙ্কা, এখনই ব্যবস্থা না নিলে শুধু কৃষকের স্বাস্থ্য নয়, পরিবেশ ও খাদ্য নিরাপত্তাও বড় সঙ্কটে পড়বে। তাই সচেতনতা বৃদ্ধি থেকে শুরু করে সুরক্ষা সরঞ্জাম সহজলভ্য করা—সব দিকেই দ্রুত উদ্যোগের দাবি উঠছে।
মন্তব্য