দুর্নীতির অভিযোগে পদত্যাগ করা এক নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ নেতাকে পুনর্বহালের সুপারিশ করে বিএনপি দলীয় সংসদ সদস্যের দেওয়া ডিও (আধা সরকারি) লেটার ঘিরে নাটোরের বড়াইগ্রামে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে।
অভিযুক্ত ওই ব্যক্তি হলেন ইসলামপুর গুনাইহাটি ফাজিল মাদরাসার সাবেক অধ্যক্ষ ও বড়াইগ্রাম উপজেলা আওয়ামী লীগের ধর্ম বিষয়ক সম্পাদক মোঃ ওসমান গণি।
জানা গেছে, গত ৫ মে নাটোর-৪ আসনের সংসদ সদস্য ও জেলা বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক মোঃ আব্দুল আজিজ মাদরাসাটির সভাপতি ও অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট (এডিএম) বরাবর একটি ডিও লেটার দেন। এতে ওসমান গণিকে পুনর্বহাল, বেতন-ভাতা প্রদান এবং স্বশরীরে দায়িত্ব পালনের সুযোগ করে দেওয়ার অনুরোধ জানানো হয়।
মাদরাসা সূত্রে জানা যায়, ১৯৮৮ সালে সহকারী মৌলভী হিসেবে কর্মজীবন শুরু করেন ওসমান গণি। পরে ২০১৫ সালে রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে অধ্যক্ষ পদে নিয়োগ পান বলে অভিযোগ রয়েছে। এরপর শিক্ষক-কর্মচারী নিয়োগ, পদোন্নতি ও প্রশাসনিক বিভিন্ন কাজে ঘুষ বাণিজ্যের অভিযোগ ওঠে তার বিরুদ্ধে।
জুলাইয়ের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর ক্ষতিগ্রস্ত কয়েকজন শিক্ষক-কর্মচারী প্রায় ২০ লাখ টাকা ফেরতের দাবিতে চাপ সৃষ্টি করলে ২০২৪ সালের ২ সেপ্টেম্বর তিনি স্বেচ্ছায় পদত্যাগ করেন। পরে একই বছরের ১ অক্টোবর ১৯ জন শিক্ষক ও ৭ জন কর্মচারী জেলা প্রশাসকের কাছে লিখিত অভিযোগ দেন। অভিযোগের অনুলিপি মাদরাসা অধিদপ্তরসহ সংশ্লিষ্ট দপ্তরে পাঠানো হয়। বর্তমানে বিষয়টির তদন্ত কার্যক্রম চলমান রয়েছে।
ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ ড. তসলিম উদ্দীন বলেন, “দুর্নীতিসহ নানা অভিযোগের কারণে অধ্যক্ষ ওসমান গণি পদত্যাগ করেছেন। অভিযোগ এখনও নিষ্পত্তি হয়নি। এরপরও গভর্নিং বডি চাইলে তাকে পুনর্বহাল করতে পারে।”
অভিযুক্ত ওসমান গণি বলেন, “একসময় এলাকাবাসী ক্ষুব্ধ ছিলেন। এখন তারা আমাকে ফিরে আসতে বলছেন। মাদরাসা অধিদপ্তর ও মন্ত্রণালয় থেকেও ইতিবাচক নির্দেশনা রয়েছে। তাই আমি পুনরায় দায়িত্বে ফিরতে আগ্রহী।”
উপজেলা আওয়ামী লীগের দপ্তর সম্পাদক মতিউর রহমান সুমন বলেন, “ওসমান গণি বর্তমানে উপজেলা আওয়ামী লীগের ধর্ম বিষয়ক সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।”
মাদরাসার সভাপতি ও নাটোরের অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মোঃ আরিফ হোসেন বলেন, “অধ্যক্ষ ওসমান গণি তার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগের পক্ষে কোনো প্রমাণ উপস্থাপন করতে পারেননি। ফলে এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া সম্ভব হয়নি।” তবে এমপির ডিও লেটার নিয়ে মন্তব্য করতে রাজি হননি তিনি।
এ বিষয়ে সংসদ সদস্য আব্দুল আজিজ বলেন, “অধ্যক্ষ ওসমান গণি মাদরাসা অধিদপ্তরের পূর্ণবহাল সংক্রান্ত কাগজপত্রসহ আবেদন করেছিলেন। সেই প্রেক্ষিতে আমি ডিও লেটার দিয়েছি।”
মন্তব্য