সিরাজগঞ্জের রায়গঞ্জে ফুলজোড় (বাঙালী) নদীর পানি মারাত্মক দুষিত হওয়ায় মাছসহ অসংখ্য জলজপ্রাণী মরে ভেসে উঠছে।
এঅবস্থায় নদীতে খাঁচায় মাছচাষকারী শত শত মৎস্যজীবি পরিবারে মাঝে হাহাকার শুরু হয়ে গেছে।
নদীর উজানে বগুড়া জেলার বিভিন্ন কলকারখানা থেকে ফেলা বিষাক্ত বর্জ্যের কারণে এই ভয়াবহ দূষণের সৃষ্টি হয়েছে বলে স্থানীয় ভুক্তভোগীদের সূত্রে অভিযোগ পাওয়া গেছে।
এই বিষাক্ত বর্জ্য নিক্ষেপ বন্ধ ও দায়ীদের শাস্তির দাবিতে উপজেলার ধানগড়া বাজারে মঙ্গলবার (২৪ ফেব্রুয়ারি) সকাল সাড়ে ১১টায় মানববন্ধন কর্মসূচি পালিত হয়। ঘন্টাব্যাপী অনুষ্ঠিত মানববন্ধনে এলাকার বিভিন্ন রাজনৈতিক, পরিবেশবাদী, সেচ্ছাসেবী ও সামাজিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দসহ সকল স্তরের জনতা অংশগ্রহন করেন।
মানববন্ধনে বক্তারা অভিযোগ করেন, দীর্ঘদিন ধরে ফুলজোড় নদীর উজানে বগুড়া জেলার শেরপুর অবস্থিত বিভিন্ন শিল্পকারখানা থেকে বিষাক্ত কেমিক্যাল বর্জ্য নদীতে ফেলা হচ্ছে। এতে নদীর পানি বিবর্ণ হয়ে মারাত্মকভাবে দূষিত হওয়ায় মাছ ও অসংখ্য জলজ প্রাণী মরে ভেসে উঠছে। নদীর পানি গোসল ও নিত্য গৃহস্থলী কাজে ব্যবহার করা যাচ্ছে না। নদীর পানিতে নামলেই আক্রান্ত হচ্ছে মানুষ, হাঁস ও গবাদি প্রাণি। দ্রুত তদন্ত করে দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ এবং স্থায়ী সমাধান নিশ্চিত করার আহ্বান জানান বক্তারা।
কর্মসূচিতে সভাপতিত্ব করেন রায়গঞ্জ পৌর বিএনপির সাবেক সভাপতি মো. হাতেম আলী সুজন। সঞ্চালনা করেন উপজেলা ছাত্রদলের সদস্যসচিব সাইফুল্লাহ ইবনে সাঈদ সজল। বক্তব্য দেন বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলন (বাপা) এর সিরাজগঞ্জ জেলা শাখা সভাপতি দীপক কুমার কর, শহীদ এম মুনছুর আলী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের সহকারী অধ্যাপক ডা. কেএইচ মুরাদ, রায়গঞ্জ প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক মো. গোলাম মুক্তাদির, স্থানীয় ভূমিহীন সমিতির নেতা আবু হাসেম, নদীতে খাচায় মাছচাষে নিয়োজিত মৎস্যচাষী সমিতির নেতা আতাউর রহমান খান, নাগরিক সমাজের ইঞ্জিনিয়ার সাব্বির হোসেন ও শামীম খন্দকার প্রমুখ। মানববন্ধনে আগামী ৭২ ঘণ্টার মধ্যে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ না করলে কঠোর আন্দোলনের কর্মসূচি দেওয়া হয়।
মানববন্ধন শেষে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে গণস্বাক্ষরিত একটি অভিযোগপত্র পেশ করা হয়।
এ বিষয়ে রায়গঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. আবদুল খালেক পাটোয়ারী বলেন, বিষয়টি তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এব্যাপারে পরিবেশ অধিদপ্তর সিরাজগঞ্জের সহকারী পরিচালক তুহিন আলম বলেন, যেহেতু উজানের কারখানাগুলো বগুড়া জেলায় অবস্থিত তাই তিনি অত্র দপ্তরের বগুড়ার সহকারী পরিচালক ও বিভাগীয় কর্মকর্তার সাথে যোগাযোগ করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহন করবেন ।
উল্লেখ্য, এর আগে গত বছরে একইভাবে নদীর পানি দূষণের দায়ে বগুড়ার শেরপুর উপজেলার ছোনকায় অবস্থিত এস আর কেমিক্যাল ও মজুমদার প্রডাক্স লিমিটেড নামক কারখানা দুটি সতর্কীকরণ নোটিশসহ জরিমানা করা হয়।
মন্তব্য