জন্মের পর থেকেই অসুস্থতার সঙ্গে লড়াই করছে ছোট্ট রুকাইয়া সুলতানা রুহি (৯)। হার্টে একাধিক ছিদ্র ও মস্তিষ্কে টিউমারের মতো জটিল রোগে আক্রান্ত হয়ে বর্তমানে জীবন-মৃত্যুর সন্ধিক্ষণে রয়েছে সে।
যে বয়সে শিশুরা হাসি-আনন্দে দিন কাটায়, সেই বয়সেই রুহির জীবন ভরে গেছে কষ্ট আর অনিশ্চয়তায়। বাবার স্নেহ থেকে বঞ্চিত এই শিশুটির একটাই আকুতি—সে বাঁচতে চায়, আবার স্কুলে ফিরতে চায়।
রুহি বাগাতিপাড়া উপজেলার জাগুয়াড়দিয়াড় ইউনিয়নের পাঁচুড়িয়া গ্রামের মো. রমজান আলী ও জান্নাতুল ফেরদৌস দম্পতির বড় মেয়ে। বর্তমানে সে সান্যালপাড়া গ্রামে তার নানা-নানীর বাড়িতে বসবাস করছে।
পরিবার সূত্রে জানা যায়, জন্মের তিন মাস বয়সে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলে তার হার্টে একটি ছিদ্র ধরা পড়ে। আর্থিক সংকটে কয়েক বছর পর চিকিৎসা বন্ধ হয়ে যায়। দীর্ঘদিন চিকিৎসাহীন থাকার পর গত বছরের নভেম্বরে নতুন করে অসুস্থ হয়ে পড়লে পরীক্ষায় তার মস্তিষ্কে টিউমার এবং হার্টে আরও তিনটি ছিদ্র ধরা পড়ে।
এরপর থেকে তার শরীরের বাম পাশ অবশ হয়ে গেছে। মাঝে মাঝে অস্বাভাবিক আচরণ, কান্নাকাটি ও দৈনন্দিন কাজের নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেলছে সে।
এদিকে পারিবারিক অশান্তির জেরে চলতি বছরের শুরুতে রুহির মা তাকে নিয়ে বাবার বাড়িতে চলে আসেন। পরে মার্চ মাসে তাদের মধ্যে বিবাহবিচ্ছেদ ঘটে। এরপর থেকে রুহির খোঁজখবর নিচ্ছেন না তার বাবা।
বর্তমানে অসুস্থ নানা-নানীর কাছেই রুহির আশ্রয়। নানা আব্দুল মান্নান কিডনি রোগে এবং নানী আমিরন বেগম স্তন ক্যানসারে ভুগছেন। নিজেদের চিকিৎসা চালানোই যেখানে কঠিন, সেখানে রুহির চিকিৎসার ব্যয়ভার বহন করা তাদের পক্ষে অসম্ভব হয়ে পড়েছে।
রুহির নানা আব্দুল মান্নান বলেন, “আমরা খুব গরিব মানুষ। আমার কোনো জমি-জমা নেই। আমি নিজেও অসুস্থ, আমার স্ত্রী ক্যানসারের রোগী। রুহির চিকিৎসা করানোর মতো সামর্থ্য আমাদের নেই। সমাজের সবার কাছে সাহায্যের আবেদন জানাই।”
চিকিৎসকদের মতে, উন্নত চিকিৎসার জন্য দ্রুত তাকে ঢাকায় নিতে হবে, প্রয়োজনে বিদেশেও নেওয়ার প্রয়োজন হতে পারে। এতে প্রায় ১০ থেকে ১২ লাখ টাকা ব্যয় হবে, যা এই পরিবারের পক্ষে জোগাড় করা সম্ভব নয়।
স্থানীয়রা জানান, রুহি অত্যন্ত অসহায় একটি শিশু। তার বাবা পাশে নেই, আর অসুস্থ নানা-নানীর পক্ষে চিকিৎসার খরচ বহন করা সম্ভব নয়। তারা সমাজের বিত্তবান ও হৃদয়বান মানুষের কাছে এগিয়ে আসার আহ্বান জানিয়েছেন।
সান্যালপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক মো. আশরাফুল ইসলাম বলেন, “রুহি আমাদের দ্বিতীয় শ্রেণির ছাত্রী। সে খুব মেধাবী ছিল। অসুস্থতার কারণে পরীক্ষা দিতে পারেনি। আমরা চাই, সে সুস্থ হয়ে আবার স্কুলে ফিরে আসুক।”
ওয়ার্ড মেম্বার আব্দুল মান্নান বাদশা বলেন, “মানবিক দৃষ্টিকোণ থেকে সবারই রুহির পাশে দাঁড়ানো উচিত।”
ছোট্ট রুহির কণ্ঠে একটাই আকুতি—সে বাঁচতে চায়, আবার বই-খাতা নিয়ে স্কুলে যেতে চায়, সবার মতো খেলাধুলা করতে চায়।
সহায়তা পাঠানোর জন্য (বিকাশ):আমিরন বেগম (নানী)
০১৩১০-৩২২৮৮৮। মানবিক সহায়তায় এগিয়ে আসুন—আপনার সামান্য সহযোগিতাই বাঁচাতে পারে একটি শিশুর জীবন।
মন্তব্য