নাটোর ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে শিশুকন্যাকে নিয়ে চিকিৎসাধীন অবস্থায় এক নারীকে (১৮) যৌন নির্যাতনের অভিযোগে তিনজনকে আটক করেছে পুলিশ।
অভিযুক্তরা হাসপাতালের আউটসোর্সিং কর্মী বলে জানা গেছে। ঘটনাটি নিয়ে এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।
আজ মঙ্গলবার (৯ জুন) ভুক্তভোগীর বাবা নাটোর সদর থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করলে পুলিশ তাৎক্ষণিক অভিযান চালিয়ে অমিত (২৩), অনিল (২৪) ও প্রাঙ্গন (২৩) নামে তিনজনকে আটক করে।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, সদর উপজেলার বাসিন্দা ওই নারী তার দুই বছর বয়সী অসুস্থ কন্যার চিকিৎসার জন্য গত ৫ জুন নাটোর আধুনিক সদর হাসপাতালের শিশু ওয়ার্ডে ভর্তি ছিলেন। তার স্বামী কর্মসূত্রে বাইরে থাকায় শিশুর দেখাশোনার দায়িত্বে ছিলেন তিনি।
ভুক্তভোগীর অভিযোগ অনুযায়ী, গত রোববার (৭ জুন) রাতে ওষুধ দেওয়ার কথা বলে একজন অভিযুক্ত তাকে ওয়ার্ড থেকে ডেকে নিয়ে যান। পরে হাসপাতালের ষষ্ঠ তলার সিঁড়িঘরে তাকে জোরপূর্বক যৌন নির্যাতন করা হয়। এ সময় অপর দুই অভিযুক্ত ঘটনাটি মোবাইল ফোনে ধারণ করে বলে অভিযোগ করা হয়েছে। পরবর্তীতে ওই ভিডিও দেখিয়ে তাকে ভয়ভীতি ও চাপ প্রয়োগেরও অভিযোগ রয়েছে।
এদিকে দীর্ঘ সময় মাকে না পেয়ে শিশু কান্নাকাটি শুরু করলে বিষয়টি ওয়ার্ডে দায়িত্বরত নার্স ও অন্যান্য কর্মচারীদের নজরে আসে। পরে হাসপাতালের আনসার সদস্যরা সিসিটিভি ফুটেজ পর্যালোচনা করে সংশ্লিষ্ট স্থানে পৌঁছে তরুণীকে উদ্ধার করেন বলে জানা গেছে।
ভুক্তভোগীর স্বামী জানান, পরদিন সকালে হাসপাতালে এসে স্ত্রী ও সন্তানকে না পেয়ে খোঁজাখুঁজি শুরু করলে তিনি ঘটনার বিষয়ে অবগত হন।
নাটোর সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মনসুর রহমান বলেন, ভিকটিমের বাবা কর্তৃক লিখিত অভিযোগ পাওয়ার পরপরই তিনজনকে আটক করা হয়েছে, এবং তাদের বিষয়ে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
মন্তব্য