নাটোরের বড়াইগ্রাম উপজেলায় এক প্রবাসীর বাসায় ঢুকে তিন লাখ টাকা চাঁদাবাজির অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় বিএনপির কয়েকজন কর্মীর বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় ভুক্তভোগীর স্ত্রী বাদী হয়ে ১১ জনের বিরুদ্ধে মামলা করেছেন।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র জানায়, উপজেলার সদরে ভাড়া বাসায় থাকেন ওই প্রবাসীর স্ত্রী। গত শনিবার (২৩ আগস্ট) দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে বিএনপির সঙ্গে সম্পৃক্ত কয়েকজন কর্মী জোরপূর্বক তাঁর বাসায় ঢুকে পড়েন। একপর্যায়ে তাঁরা ওই নারীর এক আত্মীয়কে বেঁধে রেখে সম্পর্কের অভিযোগ তুলে ছবি ও ভিডিও ধারণ করেন। এরপর ভিডিও ফেসবুকে ছড়িয়ে দেওয়ার ভয় দেখিয়ে ১০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করেন।
চাঁদা না পেয়ে অভিযুক্তরা ভুক্তভোগী নারীকে শারীরিকভাবে নির্যাতন করেন। নিরুপায় হয়ে তিনি তিন ভরি স্বর্ণালংকার বন্ধক রেখে তিন লাখ টাকা দেন। বাকি সাত লাখ টাকা তিন দিনের মধ্যে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিলে অভিযুক্তরা চলে যান।
পরবর্তীতে ওই নারী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে বিষয়টি জানালে তিনি আইনের আশ্রয় নেওয়ার পরামর্শ দেন। এর পর বুধবার (২৭ আগস্ট) রাতে তিনি বড়াইগ্রাম থানায় পাঁচজনের নাম উল্লেখ করে ১১ জনকে আসামি করে মামলা করেন।
মামলার আসামিরা হলেন— রনি হোসেন (২৯), তাঁর স্ত্রী সুমাইয়া বেগম (২৪), বেলাল হোসেন (২৮), ইকবাল হোসেন (২৮) ও কামরুল ইসলাম (২৮)। তাঁদের সবার বাড়ি বনপাড়া পৌর এলাকায়।
বড়াইগ্রাম থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সারোয়ার হোসেন বলেন, “অভিযুক্তরা চাঁদা আদায়ের জন্য পরিস্থিতি তৈরি করেছিল। তাঁদের বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি ও পর্নোগ্রাফি আইনে মামলা নেওয়া হয়েছে। আসামিদের গ্রেপ্তারে পুলিশ অভিযান চালাচ্ছে।”
এ বিষয়ে বনপাড়া পৌর বিএনপির সাবেক সভাপতি ও জেলা বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির সদস্য লুৎফর রহমান বলেন, “বিএনপিতে কোনো চাঁদাবাজের স্থান নেই। অভিযুক্তরা নিজেদের কর্মী দাবি করলেও দলের কোনো পদে নেই। আইন প্রয়োগকারী সংস্থা প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিলে আমরা সহযোগিতা করব।”
মন্তব্য