চলনবিল এলাকায় গত কয়েকদিন টানা বৃষ্টিতে পাকা ও আধাপাকা বোরো ধান পানির নিচে তলিয়ে যাচ্ছে। প্রতিকূল আবহাওয়া, শ্রমিক সংকট ও বাজারের অস্থিরতায় কৃষকদের মধ্যে নেমে এসেছে চরম হতাশা। দিশেহারা হয়ে পড়েছে কৃষকেরা।
সরেজমিনে দেখা যায়, কয়েকদিনের টানা বর্ষণে জমিতে পানি জমে ধান ডুবে গেছে। ইতোমধ্যে আত্রাই নদীর পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় ফসল রক্ষায় নিংগইন, জোরমল্লিকা ও হাসপুকুরিয়ায় অস্থায়ী বাঁধ নির্মাণ করেছে কৃষকরা। দুপুরে বাঁধ নির্মাণ সহ ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা পরিদর্শন করেন স্থানীয় সংসদ সদস্য আনোয়ারুল ইসলাম আনু।
চোখের সামনে কষ্টার্জিত ফসল নষ্ট হতে দেখে কৃষকরা দিশেহারা হয়ে পড়েছেন। অনেকেই সময়মতো ধান কাটতে না পারায় বড় ধরনের ক্ষতির মুখে পড়েছেন।
কৃষকরা জানান, একদিকে তীব্র শ্রমিক সংকট, অন্যদিকে জ্বালানি তেলের অভাবে কম্বাইন হারভেস্টার ব্যবহারও ব্যাহত হচ্ছে। ফলে দ্রুত ধান কাটার কোনো কার্যকর উপায় পাচ্ছেন না তারা। এর ওপর টানা বৃষ্টির কারণে জমিতে পানি জমে থাকায় পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠেছে। খরচ বাড়ছে পাশাপাশি ধানের দম কম । বৈরি আবহাওয়ার কারনে ধান শুকাতে পারছে না।
ধানের দাম নিয়েও ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন কৃষকরা। তাদের অভিযোগ, আড়ৎদার ও ফড়িয়ারা সিন্ডিকেট করে ধানের দাম কমিয়ে দিচ্ছে। সরকার নির্ধারিত প্রতি মণ ধানের মূল্য ১ হাজার ৪৪০ টাকা হলেও বর্তমানে বাজারে তা ৮০০/৯০০ টাকার মতো বিক্রি হচ্ছে, যা উৎপাদন খরচের তুলনায় অনেক কম।
স্থানীয় কৃষকদের আশঙ্কা, দ্রুত আবহাওয়া অনুকূলে না ফিরলে এবং প্রয়োজনীয় সহায়তা না পেলে চলতি মৌসুমে বড় ধরনের ফসলহানির মুখে পড়তে পারেন তারা।
উপজেলা কৃষি অফিসার খন্দকার ফরিদ জানান, চলতি মৌসুমে উপজেলায় প্রায় ৩৬ হাজার ৫১০ হেক্টর জমিতে বোরো ধান আবাদ হয়েছে। টানা বৃষ্টিতে ইতোমধ্যে হাজার হাজার হেক্টর জমি প্লাবিত হয়েছে। এবার ১৫% জমির ফসল ঘরে তুলতে পারছে কৃষকেরা।
মন্তব্য