নাটোরের বাগাতিপাড়ার বাংলাদেশ আর্মি ইউনিভার্সিটি অব ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যান্ড টেকনোলজি (বাউয়েট) ক্যাম্পাসে দুই দিনব্যাপী প্রকৌশল গবেষণা ও প্রযুক্তি বিষয়ক আন্তর্জাতিক সম্মেলন শেষ হয়েছে।
শুক্রবার রাতে সম্মেলনের সমাপনী অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে এর আনুষ্ঠানিক সমাপ্তি হয়।
সমাপনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সমাজকল্যাণ প্রতিমন্ত্রী ফারজানা শারমীন।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে প্রতিমন্ত্রী বলেন, এ ধরনের আন্তর্জাতিক সম্মেলন গবেষক ও শিক্ষাবিদদের মধ্যে জ্ঞান ও অভিজ্ঞতা বিনিময়ের পাশাপাশি নতুন প্রযুক্তি উদ্ভাবন, আন্তর্জাতিক সহযোগিতা এবং ভবিষ্যৎ গবেষণার ক্ষেত্র সম্প্রসারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
তিনি বলেন, বর্তমান সরকার নতুন বাংলাদেশ বিনির্মাণের কার্যক্রম শুরু করেছে। প্রয়োজন অনুযায়ী সরকার গবেষণা এবং গবেষণার প্রয়োগিক ক্ষেত্রে পৃষ্ঠপোষকতা করবে। সম্মেলনে উপস্থাপিত গবেষণাপত্র থেকে প্রয়োজনীয় ধারণা গ্রহণ করে দেশকে সমৃদ্ধির পথে এগিয়ে নেওয়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন তিনি।
প্রতিমন্ত্রী তরুণদের জ্ঞান, প্রযুক্তি, উদ্ভাবন ও মানবিক মূল্যবোধ কাজে লাগিয়ে দেশের উন্নয়নে অবদান রাখার আহ্বান জানান।
অনুষ্ঠানে সম্মানিত অতিথির বক্তব্যে বাউয়েটের উপাচার্য ব্রিগেডিয়ার জেনারেল এস এম লুৎফর রহমান বলেন, এ ধরনের আন্তর্জাতিক সম্মেলন গবেষণা ও উদ্ভাবনের ক্ষেত্রে নতুন সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচন করেছে। পাশাপাশি দেশি-বিদেশি গবেষকদের মধ্যে জ্ঞান ও অভিজ্ঞতা বিনিময়ের সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে।
তিনি বলেন, এর মাধ্যমে আন্তঃবিষয়ক গবেষণা, আন্তর্জাতিক সহযোগিতা এবং শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও শিল্পখাতের মধ্যে কার্যকর সংযোগ আরও জোরদার হবে। বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক প্রকৌশল গবেষণা ও প্রযুক্তিগত অগ্রযাত্রায় এ সম্মেলন একটি মাইলফলক হয়ে থাকবে।
সম্মেলনে সম্মানিত অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন বগুড়া বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. কুদরত-ই-জাহান। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জাপানের গুনমা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. কো ইয়ামাদা।
এ ছাড়া বক্তব্য দেন সম্মেলনের সাধারণ সভাপতি বুয়েটের তড়িৎ ও তড়িৎ প্রকৌশল বিভাগের অধ্যাপক ড. সেলিয়া শাহনাজ এবং কারিগরি কর্মসূচির সভাপতি একই বিভাগের অধ্যাপক ড. শেখ আনোয়ারুল ফাত্তাহ।
সমাপনী অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বাউয়েটের ইইই বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. ওসমান গনি।
উল্লেখ্য, বাউয়েটের ইলেকট্রিক্যাল অ্যান্ড কম্পিউটার ইঞ্জিনিয়ারিং অনুষদের উদ্যোগে আয়োজিত এ সম্মেলনে সিগন্যাল প্রসেসিং, ইনফরমেশন, কমিউনিকেশন অ্যান্ড সিস্টেম বিষয়ে ১৮টি দেশের ১০৯টি বিশ্ববিদ্যালয়ের বাছাইকৃত ৩২৮টি গবেষণাপত্র উপস্থাপন করা হয়।
মন্তব্য