নাটোর শহরের প্রাণকেন্দ্র বলারী পাড়া। কয়েক হাজার মানুষের বসবাস এই ঘনবসতিপূর্ণ এলাকায়। অথচ দীর্ঘ এক দশক ধরে এলাকার প্রধান সড়কগুলো সংস্কারহীন অবস্থায় পড়ে আছে। প্রতিটি বৃষ্টিপাতের পর রাস্তাগুলো পরিণত হয় জলাবদ্ধতার কবলে। ড্রেনেজ ব্যবস্থার অভাবে পানি নিষ্কাশনের কোনো উপায় নেই। ফলে খানাখন্দে ভরা সড়কগুলো একেবারেই চলাচল অযোগ্য হয়ে উঠেছে।
ভবানীগঞ্জ মোড় থেকে বলারী পাড়া চারমাথা মোড় পর্যন্ত ৫৫০ মিটার সড়কের অবস্থা সবচেয়ে করুণ। রাস্তাঘাটের পাশে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে থাকা ডাস্টবিনগুলো পরিণত হয়েছে দুর্গন্ধযুক্ত ময়লার ভাগারে। ওহাব মোড় থেকে গণগ্রন্থাগার পর্যন্ত ৫৫০ মিটার সড়কটিও বেহাল অবস্থায়। বিশেষ করে ওহাব মোড় থেকে কালেক্টরেট স্কুল পর্যন্ত ৫০০ মিটার রাস্তায় বৃষ্টি হলেই যেন চলাচলের জন্য নৌকার প্রয়োজন হয়। কাসারি পট্টির ১০০মিটার রাস্তা বহু বছর ধরে অকেজো। মেহগনি বাগান থেকে পরিত্যক্ত ভাটা পর্যন্ত ৩০০ মিটার সড়কও ভগ্নদশায় রয়েছে। সর্বমোট প্রায় দুই কিলোমিটার সড়কের এই বেহাল দশায় প্রতিদিন প্রায় ১০ হাজার মানুষকে দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে।
স্থানীয় শিক্ষক সাদ্দাম হোসেন ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “এলাকাটি শহরের কেন্দ্রস্থলে হলেও চরম অবহেলিত। প্রতিদিন শিক্ষার্থী থেকে শুরু করে সাধারণ মানুষ চরম ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন। কর্তৃপক্ষের নজরদারি থাকলে এতদিনে উন্নয়ন সম্ভব হতো।”
স্থানীয় ব্যবসায়ী জাহিদুল ইসলাম জানান, “রাস্তার বেহাল অবস্থা ব্যবসা-বাণিজ্যেও প্রভাব ফেলছে। গ্রাহকরা দোকানে আসতে চায় না। অনেক সময় পণ্য আনা-নেওয়ায়ও সমস্যায় পড়তে হয়।”
স্কুলছাত্রী ফাতেমা বিনতে মজিদ জানায়, “বৃষ্টি হলে স্কুলে যাওয়া মানে দুর্ভোগের যাত্রা। পানি আর কাদা মাড়িয়ে প্রতিদিন স্কুলে পৌঁছাতে হয়।”
পৌর প্রশাসক আসমা খাতুন বলেন, “বলারীপাড়া এলাকায় সড়ক সংস্কারের জন্য বরাদ্দ অনুমোদন হয়েছে। বরাদ্দ হাতে এলে কাজ শুরু করা হবে। আমরা আশা করছি খুব শিগগিরই উন্নয়নকাজ শুরু হবে।”
তবে সচেতন মহলের অভিযোগ, কেবল সড়ক সংস্কারই যথেষ্ট নয়। সঠিক ড্রেনেজ ব্যবস্থা না থাকলে সমস্যার সমাধান হবে না। তারা অভিযোগ করে বলেন, “ময়লা ফেলার নির্দিষ্ট জায়গা না থাকায় পরিবেশ দূষণ বাড়ছে। শিশু ও বৃদ্ধরা স্বাস্থ্যঝুঁকিতে রয়েছেন।”
স্থানীয় বাসিন্দা আমীর হামজা বলেন, “প্রতিবারই উন্নয়নের প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়, কিন্তু কাজের কাজ কিছু হয় না। আমরা অবিলম্বে সড়ক সংস্কার, কার্যকর ড্রেনেজ ব্যবস্থা ও পরিচ্ছন্নতা কর্মসূচি বাস্তবায়নের দাবি জানাচ্ছি।”
সচেতন নাগরিকরা মনে করছেন, শহরের কেন্দ্রস্থলের এমন অবহেলা শহরের সার্বিক উন্নয়ন প্রক্রিয়াকে প্রশ্নবিদ্ধ করছে। তাদের আহ্বান, দীর্ঘদিনের এই দুর্ভোগ থেকে মুক্তি দিতে অবিলম্বে পদক্ষেপ গ্রহণ করা হোক।
মন্তব্য