অর্ধবঙ্গেশ্বরী খ্যাত রানী ভবানীর নাটোর রাজবাড়ীটি নির্মিত হয়েছিল প্রায় ৩০০ বছর আগে। একসময় সমৃদ্ধ স্থাপত্যশৈলী ও ঐতিহ্যের প্রতীক এই রাজবাড়ী এখন দখল, অব্যবস্থাপনা ও অযত্নে হারাচ্ছে তার জৌলুস।
রাজবাড়ির বিশাল এলাকাজুড়ে এখন সরকারি দপ্তর, কর্মকর্তাদের কোয়ার্টার, দোকানপাট, এমনকি পিকনিকের রান্নার স্থানও গড়ে উঠেছে। ফলে ইতিহাস ও ঐতিহ্যের এ নিদর্শন আজ দখল ও ধ্বংসযজ্ঞের শিকার। প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তর দায়িত্ব নেওয়ার পরও তেমন কোনো বড় সংস্কার হয়নি। অবহেলায় প্রতিদিনই নষ্ট হচ্ছে ভবনের অবকাঠামো ও স্থাপত্যশিল্প।
রাজবাড়িটি নির্মাণ করেন নাটোর রাজবংশের প্রথম রাজা রামজীবন চৌধুরী। ১৭০৬ থেকে ১৭১০ খ্রিষ্টাব্দে ১২০ একর জমির ওপর গড়ে ওঠে এ প্রাসাদ। পরবর্তীতে রাণী ভবানী নাটোর রাজবংশের শাসনভার গ্রহণ করেন এবং তার জমিদারি বিস্তৃত হয় বর্তমান রাজশাহী, পাবনা, বগুড়া, কুষ্টিয়া, যশোর, রংপুরসহ পশ্চিমবঙ্গের মুর্শিদাবাদ, বীরভূম ও মালদহ পর্যন্ত।
রাজবাড়িতে রয়েছে ছোট-বড় ৮টি ভবন, কয়েকটি দীঘি ও পুকুর। নিরাপত্তার জন্য ছিল দ্বিস্তরীয় ঘেরাও প্রাচীর। রাজবাড়ি মূলত দুই ভাগে বিভক্ত—ছোট তরফ ও বড় তরফ।
১৯৮৬ সাল থেকে রাজবাড়ি এলাকা রানী ভবানী কেন্দ্রীয় উদ্যান বা যুবপার্ক হিসেবে জেলা প্রশাসনের নিয়ন্ত্রণে এবং ১৯৮৯ সাল থেকে ভবনগুলোর তদারকি করছে প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তর। তবে পর্যাপ্ত সংস্কার না হওয়ায় দিন দিন নষ্ট হচ্ছে এই অনন্য স্থাপত্য নিদর্শন।
ঐতিহাসিক নাটোর রাজবাড়ি রক্ষায় স্থানীয়রা অবৈধ দখল উচ্ছেদ ও যথাযথ সংস্কারের জোর দাবি জানিয়েছেন। তাদের মতে, সঠিক পদক্ষেপ নিলে এ রাজবাড়ি কেবল নাটোর নয়, সারা দেশের ঐতিহ্যের গর্ব হয়ে উঠতে পারে।
মন্তব্য