নাটোরে বিএনপির অভ্যন্তরীণ কোন্দল ও অপপ্রচার নতুন করে তীব্র আকার ধারণ করেছে। অভিযোগ উঠেছে, লালপুর উপজেলা বিএনপির সাবেক আহ্বায়ক ও জেলা বিএনপির সদস্য ডা. ইয়াসির আরশাদ রাজন থানায় হামলা ও আসামি ছিনতাই মামলার আসামিদের ফজলুর রহমান পটলের বাসভবনে সংবর্ধনা দিয়েছেন।
গত এপ্রিল লালপুর থানা পুলিশের হাতে গ্রেপ্তারকৃত ছাত্রদল নেতা রুবেল উদ্দিনকে ছিনিয়ে নিতে বিএনপি ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা থানায় হামলা চালান। এ ঘটনায় পুলিশ বাদী হয়ে মামলা দায়ের করে। ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, আসামি ছিনতাইয়ের সময় কর্মীরা ‘রাজন ভাই’ স্লোগান দিচ্ছিলেন। পরবর্তীতে ওই মামলার আসামিরাই সংবর্ধনা পান বলে অভিযোগ।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এ ধরনের কর্মকাণ্ড দলের তৃণমূল পর্যায়ে সাংগঠনিক দুর্বলতা ও নেতৃত্বের সমন্বয়হীনতার বহিঃপ্রকাশ। এতে কর্মীদের মধ্যে বিভ্রান্তি তৈরি হচ্ছে এবং নির্বাচনী প্রস্তুতিও ব্যাহত হতে পারে।
আইন বিশেষজ্ঞরা বলছেন, আসামিদের সংবর্ধনা দেওয়া শুধু অপরাধীদের উৎসাহিত করে না, বরং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতিকে আরও নাজুক করে তোলে। এটি দণ্ডবিধির একাধিক ধারায় শাস্তিযোগ্য অপরাধের পর্যায়ে পড়ে।
অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. ইফতেখার আলম জানিয়েছেন, তদন্ত সাপেক্ষে প্রকৃত অপরাধীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।
বিএনপির গঠনতন্ত্র অনুযায়ী, দলের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণকারী কর্মকাণ্ডের কারণে যেকোনো সদস্যকে বহিষ্কার বা শাস্তি দেওয়া যেতে পারে। জেলা বিএনপির অনেক নেতা মনে করছেন, রাজনের এই কর্মকাণ্ড কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের জন্যও বিব্রতকর পরিস্থিতি তৈরি করেছে।
বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এ বিষয়ে বলেন, “বিএনপি আইনের শাসনে বিশ্বাসী। কেউ দলের নীতি বিরোধী কাজ করলে তদন্ত করে তার বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
মন্তব্য