নাটোরের বাগাতিপাড়া উপজেলার জামনগর ইউনিয়নের পকেট খালি মোড়ে অবস্থিত একটি যাত্রী ছাউনি দীর্ঘদিন ধরে অবহেলার শিকার হয়ে এখন পরিণত হয়েছে এক ভয়াবহ ‘মরণ ফাঁদে’।
উপজেলার একেবারে শেষপ্রান্তে অবস্থিত এই ছাউনিটির পাশ দিয়েই একটি গুরুত্বপূর্ণ সড়ক রাজশাহীর পুঠিয়া-আড়ানী-বাঘা সড়কের সঙ্গে সংযুক্ত হয়েছে। এই সড়ক দিয়ে প্রতিদিন অসংখ্য যাত্রী ধামুর হাট, সিটির হাট, সিকদারী হাটসহ আশপাশের বিভিন্ন বাজারে যাতায়াত করে থাকেন। তবে রোদ, বৃষ্টি কিংবা বিশ্রামের জন্য এই ঝুঁকিপূর্ণ ছাউনিটিই তাদের একমাত্র ভরসা।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে, যাত্রী ছাউনিটির খুঁটিগুলো ভেঙে গেছে এবং কোনোমতে বাঁশ দিয়ে ঠেকিয়ে রাখা হয়েছে। চালের বেশিরভাগ অংশেই ছিদ্র হয়ে গেছে, দেয়ালে দেখা দিয়েছে বড় বড় ফাটল। যেকোনো সময় পুরো ছাউনিটি ধসে পড়তে পারে—ঘটে যেতে পারে প্রাণঘাতী দুর্ঘটনা। তবুও ক্লান্ত পথচারীরা বাধ্য হয়ে এই ভাঙা ছাউনির নিচেই বসে বিশ্রাম নিচ্ছেন।
জামনগর পশ্চিমপাড়ার স্থানীয় বাসিন্দা কদম আলী (২৮) বলেন,
“এই ছাউনিটা প্রায় ২০ বছর আগে নির্মাণ করা হয়েছিল। একসময় মানুষ এখানে বিশ্রাম নিতো, এখন ঝুঁকিপূর্ণ হওয়ায় অনেকে আসে না, তবুও রোদ-বৃষ্টি থেকে বাঁচতে যারা আসে, তারা এখানেই বসে।”
পার্শ্ববর্তী চারঘাট উপজেলার চায়ের দোকানি তরিকুল ইসলাম (৪৫) জানান,
“এই এলাকার আশপাশে ৩ কিলোমিটার পর্যন্ত কোনো বসতবাড়ি নেই। রাস্তাটি তিনটি উপজেলার সংযোগস্থল হওয়ায় এখানে প্রচুর মানুষ চলাচল করে। যাত্রী ছাউনিটি ভেঙে পড়লে বড় দুর্ঘটনা ঘটতে পারে।”
স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরাও ছাউনিটির ভয়াবহ অবস্থার কথা স্বীকার করেছেন। জামনগর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান গোলাম রব্বানী বলেন,
“বিষয়টি আমাদের নজরে এসেছে। যাত্রী ছাউনিটি এখন খুবই ঝুঁকিপূর্ণ। উপজেলা প্রশাসনের কাছে পুনর্নির্মাণের অনুরোধ করেছি।”
এ বিষয়ে জানতে চাইলে বাগাতিপাড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মারুফ আফজাল রাজন বলেন,
“আমরা ছাউনিটির অবস্থা সম্পর্কে অবগত এবং ইতোমধ্যে সংস্কারের জন্য একটি প্রস্তাব তৈরি করা হয়েছে। যথাসম্ভব দ্রুত সংস্কারকাজ শুরু করার চেষ্টা চলছে।”
এলাকাবাসীর একটাই দাবি—দ্রুত ছাউনিটি পুনর্নির্মাণ বা মেরামত করা হোক, যাতে সাধারণ যাত্রীরা নিরাপদে বিশ্রাম নিতে পারেন। প্রশাসনের দৃষ্টি আকর্ষণ করে তারা বলেন, সংস্কারের বিলম্ব মানেই সম্ভাব্য এক প্রাণঘাতী দুর্ঘটনার ঝুঁকি।
মন্তব্য