রাজশাহীর বাঘা উপজেলায় চলতি মৌসুমে মুড়িকাঁটা পেঁয়াজের বাম্পার ফলন হয়েছে। তবে এই পেঁয়াজ চাষ করে ব্যাপক লোকসানের মুখে পড়েছেন চরাঞ্চলের কৃষকরা। উৎপাদন ভালো হলেও বাজারে ন্যায্যমূল্য না পাওয়ায় বিপাকে পড়েছেন সাধারণ কৃষকরা।
পদ্মা নদীসংলগ্ন বাঘার পাকুড়িয়া ও চকরাজাপুর ইউনিয়নের বিভিন্ন চরে এ বছর ব্যাপক আকারে পেঁয়াজ চাষ করা হয়। কৃষকদের অভিযোগ, বিঘাপ্রতি পেঁয়াজ উৎপাদনে যা খরচ হয়েছে কিন্তু বর্তমানে বাজারে প্রতি মণ পেঁয়াজ যে মূল্যে বিক্রি হচ্ছে তা উৎপাদন ব্যয়ের তুলনায় অনেক কম।
কালিদাসখালী চরের মহিদুল চাষী জানান, বর্তমানে যে দামে পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে, দাম না বাড়লে চাষ করে লাভবান হওয়া মুশকিল হয়ে পড়বে। কারণ বীজ, সার ও কিটনাশকের দাম আগের চেয়ে অনেক বেশি। চলতি মৌসুমে যারা পেঁয়াজ আবাদ করেছেন, ইতোমধ্যে তারা বিক্রি করতে শুরু করেছেন।
মহিলা শ্রমিক জয়গন বেগম জানান, মৌসুমে আগাম জাতের এই পেঁয়াজ উৎপাদন করে চরের অধিকাংশ চাষিরা লাভবান হয়েছেন কিন্তু বর্তমানে যা দাম পেঁয়াজ বিক্রি করে খরচের টাকা উঠানোই কঠিন হয়ে পড়ছে।
পেঁয়াজ চাষি আসাদুল ইসলাম জানান, দাম ভালো ও আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় এ বছর দেড়শত বিঘা জমিতে পেঁয়াজ চাষ করেছি। বাম্পার ফলন হয়েছে, এবার যারা আগাম জাতের পেঁয়াজ চাষ করেছেন তারা আর্থিকভাবে বেশি লাভবান হয়েছেন। তবে এখন যারা পেঁয়াজ উঠাচ্ছেন তাদের চাষ খরচও উঠবে না। মোকামে পেঁয়াজের যথেষ্ট চাহিদা আছে কিন্তু দাম কম। সরকার যদি ভারত থেকে পেঁয়াজ আমদানি না করে, তাহলে চাহিদা ও ভালো দাম থাকবে আমাদের দেশের চাষীরা ক্ষতির সম্মুখীন হবে না।
খায়েরহাট এলাকার দুলাল আলী জানান, বিভিন্ন জায়গায় লোন করে পদ্মার চরে এক বছরের জন্য চার বিঘা জমি এক লাখ ২০ হাজার টাকা দিয়ে লিজ নিয়ে পেঁয়াজ চাষ করি। বীজ, সার ও শ্রমিক বাবদ আরও এক লাখ টাকা খরচ হয়েছে। বর্তমান বাজার মূল্যে লাভ হবে না, লোন নিয়ে এখন চিন্তায় আছি।
পেঁয়াজ ক্রেতা রইস বলেন, পেঁয়াজ উত্তোলনের ভরা মৌসুম চলছে। এরপরও বিদেশ থেকে পেঁয়াজ আমদানি করার কারণে চাষিরা ন্যায্য মূল্য থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। এই মুহূর্তে বিদেশ থেকে পেঁয়াজ আমদানি বন্ধ না করা হলে, চাষিরা বিরাট লোকসানের মুখে পড়বেন এবং চাষীরা এই চাষ থেকে মুখ ফিরিয়ে নিবে।
এবিষয়ে বাঘা উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা শফিউল্লাহ সুলতান জানান, এবার উপজেলার সর্বত্র কম-বেশি পেঁয়াজের চাষ হয়েছে। উপজেলার দুটি পৌরসভা ও সাতটি ইউনিয়নে যে পরিমাণ পেঁয়াজ চাষ হয়েছে তার চেয়ে বেশি চাষ হয়েছে শুধু পদ্মার চরাঞ্চলে। এ বছর প্রথমের দিকে ভালো দাম পেয়েছেন চাষিরা। এবার বাঘা উপজেলায় ১ হাজার ৯২৬ হেক্টর জমিতে পেঁয়াজ চাষ হয়েছে যা থেকে ৩৮ হাজার ৫২০ মেট্টিক টন পেঁয়াজ বাঘা উপজেলায় উৎপাদন হবেবে বলে লক্ষ মাত্রা ধরা হয়েছে।
মন্তব্য