নাটোরের বড়াইগ্রাম উপজেলার লক্ষিকোল বাজারে শ্রী শ্রী কালী মাতার মন্দিরে চলছিল মহা হরিনাম ও লীলা কীর্তন অনুষ্ঠান।শনিবার ছিল ওই অনুষ্ঠানের শেষ দিন। অনুষ্ঠানে স্থানীয় হিন্দু ধর্মাবলম্বী ছাড়াও আশে পাশের ভক্তরা যোগ দেন। অনুষ্ঠান উপলক্ষ্যে আসেন আত্বীয়-স্বজনও। তারাও যোগ দেন ওই অনুষ্ঠানে। এরই অংশ হিসাবে আত্মীয়র বাড়ি বেড়াতে এসে ওই কীর্তনে যোগ দেন দিনাজপুর জেলার বিরামপুর এলাকার মন্টু কুমার কুন্ডু (৫৫) ও তার স্ত্রী
চায়না রানী (৩৫)। লীলা কীর্তনে তারা অপর সকল ভক্তদের সাথে হরে কৃষ্ণ হরে কৃষ্ণ বলে জপ করে থাকে। হঠাৎ তাদের পাশে এসে বসে ৩ নারী। তাদের কপালে সিঁদুর,হাতে শাখা-বালা। শারিরীক পরিচ্ছদে হিন্দু হিসাবে যে কেউ মানতে বাধ্য। ওই কীর্তনে
হরি নাম আর হরে কৃষ্ণ জপ করতে করতে এক সময় অন্যদের মতো তারাও ওই নারী পুরুষকে আবেগী ছলে আলিঙ্গন করতে করতে জপে মগ্ন হয়। হঠাৎ মন্টু খেয়াল করেন,তার স্ত্রীর গলায় স্বর্ণের চেইন নেই। বিষয়টি নিয়ে নিজেরা নিশ্চিত হয়ে ওই তিন নারীকে জিজ্ঞাসাবাদ করতে থাকে। এক সময় স্থানীয়রা পুলিশে খবর দেয়।
পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদে ফাঁস হয় তাদের আসল পরিচয়। এরপর ওই ৩ নারীর দেহ তল্লাসী করে উদ্ধার হয় চায়না রাণীর ১৪ আনি ৬ রতি ওজনের স্বর্ণের চেইন। গ্রেপ্তার করা হয় ওই ৩ নারীকে।
গ্রেপ্তার ওই ৩ নারী হলো ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার
নাসিরনগর থানার ধর মন্ডল (চকবাজার) এলাকার
দুলাল মিয়ার স্ত্রী শামসুন্নাহার (২৮),আরিছ মিয়ার স্ত্রী
লিপি আক্তার (৩০) এবং হুমায়ুন কবিরের স্ত্রী
রোজিনা খাতুন (২৬)।
বড়াইগ্রাম থানার ওসি গোলাম সরওয়ার জানান,ওই ঘটনায় পুলিশ বাদী হয়ে মামলা করেছেন। ওই নারীদের বিরুদ্ধে বিভিন্ন থানায় মামলা রয়েছে এমন তথ্যও পেয়েছেন তারা।
মামলার আইও এবং ওই থানার ওসি তদন্ত মাহাবুর রহমান জানান,রবিবার দুপুরে ওই ৩ নারীকে কোর্টে চালান দেয়া হবে।
মন্তব্য