প্রাচীন আমবাগান আর ঐতিহাসিক স্থাপত্যের সমন্বয়ে গড়া নাটোরের উত্তরা গণভবন এখন উত্তরাঞ্চলের অন্যতম জনপ্রিয় পর্যটন স্পট।
প্রতিদিন সকাল ৯টা থেকে বিকাল ৫টা পর্যন্ত ভিড় জমে দেশি-বিদেশি দর্শনার্থীদের। ৪১ একরেরও বেশি জায়গাজুড়ে নির্মিত এই সরকারি বাসভবনের ভেতরের দৃশ্য মনোমুগ্ধকর হলেও প্রধান ফটকের সামনের চত্বর, আমবাগান আর কালিপুকুর ঘিরে দর্শনার্থীদের অভিযোগ—“ভেতরে সৌন্দর্য, বাইরে বিশৃঙ্খলা।
রাজশাহীর কলেজশিক্ষক জাকির হোসেন গণভবন ঘুরে দেখার পর বললেন, “ভেতরের পরিবেশ সত্যিই চমৎকার। কিন্তু বাইরে আসতেই হতাশ হতে হয়। গাড়ি রাখার জায়গা নেই, দোকানপাট আর রিকশা-অটোরিকশার বিশৃঙ্খলায় বিরক্ত হতে হয়।”
বগুড়া থেকে আসা পর্যটক সাইন বললেন, “ভেতরে সৌন্দর্য আছে ঠিকই, কিন্তু বাইরে এত বিশাল জায়গা খালি পড়ে। সেখানে কেন কোনো ইভেন্ট বা বিনোদন স্পট নেই—বিষয়টি বোধগম্য নয়।”
ঢাকা থেকে আসা খাদিজা খাতুন মৌসুমীর চোখে পড়েছে পরিকল্পনার অভাব। তাঁর মতে, ভেতরের লেক ও আমবাগানকে কাজে লাগিয়ে স্পিডবোট বা রাইডার চালু করা গেলে শিশু-কিশোরদের পাশাপাশি সব বয়সী মানুষ মজা পেতেন। খুলনার সেলিম ইমতিয়াজ প্রস্তাব দিলেন, দোকানগুলো পুকুরপাড়ে সরিয়ে নিলে সামনের খোলা জায়গায় মিনি পার্ক ও পিকনিক স্পট তৈরি করা সম্ভব।
করোনাকালে গণভবনের সামনের আমবাগানে অস্থায়ী হাট বসতো। হাট স্থানান্তরিত হলেও বাঁশের খুঁটি সরানো হয়নি, ফলে এলাকাটি এখনও অগোছালো রয়ে গেছে। স্থানীয় দোকানদার রাজা জানান, “দোকানগুলো যদি সুবিন্যস্তভাবে বসানো যায়, তাহলে যেমন পরিবেশ ঠিক থাকবে, তেমনি ব্যবসাও চলবে।”
পরিবেশকর্মী ফজলে রাব্বী মনে করেন, পরিকল্পিত বিনোদন ইভেন্ট চালু করলে একদিকে সরকারের রাজস্ব বাড়বে, অন্যদিকে নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণে আমবাগান ও পরিবেশেরও উন্নতি হবে। নাটোরের সংস্কৃতিকর্মী এডভোকেট খগেন্দ্রনাথ রায় বলেন, “মিনি পার্ক আর নতুন রাইড যুক্ত হলে উত্তরা গণভবন শুধু ঐতিহাসিক নিদর্শনই নয়, বিনোদনের কেন্দ্রবিন্দুতেও পরিণত হবে।”
এদিকে জেলা প্রশাসন বলছে, দর্শনার্থীদের চাহিদা মেটাতে ইতোমধ্যেই নানা পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। নাটোরের এনডিসি সোহাগ বাবু জানান, “পর্যটকদের আকর্ষণ বাড়াতে ও তাদের সুবিধা নিশ্চিত করতে দ্রুত উন্নয়নমূলক কার্যক্রম হাতে নেওয়া হচ্ছে। শিগগিরই এগুলো বাস্তবায়ন শুরু হবে।”
উত্তরা গণভবন কেবল ঐতিহাসিক স্থাপনা নয়, উত্তরাঞ্চলের পর্যটন খাতের সম্ভাবনার একটি বড় নাম। ভেতরের সৌন্দর্য যেমন দর্শনার্থীদের টানে, বাইরের সুশৃঙ্খল পরিবেশ ও বিনোদন ইভেন্ট যোগ হলে এটি হয়ে উঠতে পারে দেশের অন্যতম আকর্ষণীয় ট্যুরিস্ট স্পট। দর্শনার্থীদের এখন একটাই প্রত্যাশা—“ঐতিহ্যের সৌন্দর্যের সঙ্গে যুক্ত হোক আধুনিক বিনোদনের ছোঁয়া।”
মন্তব্য