২০২৪ সালের জুলাই মাসে ঘটে যাওয়া ঐতিহাসিক গণঅভুত্থ্যানে শহীদ হওয়া নাটোরের চার নাগরিককে নিয়ে ষড়যন্ত্রের অভিযোগ তুলেছেন তাঁদের পরিবারের সদস্যরা। বৃহস্পতিবার (১৮ সেপ্টেম্বর) নাটোরে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তাঁরা এই অভিযোগ করেন।
সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, আন্দোলনের সময় শহীদ মিকদাদ হোসেন খান আকিবের পিতা অধ্যক্ষ দেলোয়ার হোসেন খান সহযোগিতার অভিযোগে গ্রেপ্তার হয়ে নাটোর জেলা কারাগারে আটক ছিলেন। শহীদ শরিফুল ইসলাম মোহনের কলেজপড়ুয়া ছেলে ফারহান ফুয়াদ জানান, ৪ আগস্ট নাটোর শহরে একটি মিছিল চলাকালে স্থানীয় তৎকালীন সংসদ সদস্য শফিকুল ইসলাম শিমুলের উপস্থিতিতে তাঁর সমর্থকরা তাঁকে ধরে নিয়ে নির্মম নির্যাতন করে।
শহীদ মেহেদী হাসান রবিন, কলেজ ছাত্র মিকদাদ হোসেন খান আকিব এবং একাদশ শ্রেণির ছাত্র ইয়াসিন আলী ৪ ও ৫ আগস্টের মিছিল ও সমাবেশে সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করেন। ৬ আগস্ট ভোরে এমপি শিমুলের বাড়ি “জান্নাতী প্যালেস” থেকে আকিব, শাওন খান সিয়াম, ইয়াসিন আলীর মরদেহ এবং শরিফুল ইসলাম মোহনের নিথর দেহ উদ্ধার করা হয়। এর আগেই আগুনে দগ্ধ মেহেদী হাসান রবিনকে হাসপাতালে নিলে তিনি চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান।
শাওন খান সিয়াম ছাড়া বাকি চারজনের মৃত্যুকে কেন্দ্র করে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও এমপি শফিকুল ইসলাম শিমুলসহ আরও কয়েকজনের বিরুদ্ধে নাটোর থানায় হত্যা মামলা দায়ের করা হয়। পরবর্তীতে বর্তমান সরকার ও “জুলাই স্মৃতি ফাউন্ডেশন” নিহতদের শহীদ হিসেবে তালিকাভুক্ত করে এবং তাঁদের বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য জেলা ও উপজেলা প্রশাসনের মাধ্যমে সংগ্রহ করে।
তবে পরিবারগুলোর দাবি, সম্প্রতি নাটোরের একটি মহল পরিকল্পিতভাবে এসব হত্যা মামলাকে ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করতে সক্রিয় হয়ে উঠেছে। তারা অভিযোগ করেন, একটি জাতীয় দৈনিক পত্রিকা এক প্রতিবেদনে দাবি করেছে, জান্নাতী প্যালেসে নিহত পাঁচজনের মধ্যে শুধু শাওন খান সিয়াম শহীদ, বাকি চারজন নন—যা সম্পূর্ণ মিথ্যা ও উদ্দেশ্যমূলক।
সংবাদ সম্মেলনে বক্তারা বলেন, “জুলাই গণঅভুত্থ্যান চলাকালে যারা ফ্যাসিবাদ বিরোধী আন্দোলনে জীবন দিয়েছেন, তারা সকলেই শহীদ। এদের শহীদ স্বীকৃতি নিয়ে কোনো ধরনের ষড়যন্ত্র মানা হবে না।”
সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন শহীদ মেহেদী হাসান রবিনের স্ত্রী ওয়াহিদা হাসান, শহীদ আকিবের পিতা অধ্যক্ষ দেলোয়ার হোসেন খান, শহীদ মোহনের ছেলে ফারহান ফুয়াদ এবং শহীদ ইয়াসিন আলীর পিতা ফজের আলীসহ অন্য স্বজনরা।
মন্তব্য