নাটোরের বড়াইগ্রাম উপজেলার রলফা গ্রামে টানা বৃষ্টিপাতের ফলে সৃষ্টি হয়েছে মারাত্মক জলাবদ্ধতা। এতে করে প্রায় ১৫০ থেকে ২০০টি পরিবার ঘরবন্দী অবস্থায় মানবেতর জীবনযাপন করছে।
আশপাশের উঁচু জমি ও রাস্তার পানি নামার কোনো পথ না থাকায় পুরো গ্রামটি এক বিশাল জলাবদ্ধ এলাকায় পরিণত হয়েছে।
গত কয়েকদিন ধরে টানা বর্ষণে গ্রামের বাড়িগুলোতে পানি ঢুকে পড়ে। অনেকের ঘর-বসতঘর পানিতে তলিয়ে গেছে। রান্না-বান্না বন্ধ, খাবার সঙ্কট, শিশু-বৃদ্ধদের চলাফেরায় বিঘ্ন—সব মিলিয়ে এক অসহনীয় অবস্থার মধ্যে দিন কাটছে গ্রামবাসীর।
স্থানীয় গৃহবধূ সালেহা বেগম বলেন,
“বাচ্চাদের মুখে ভাত তুলে দিতে পারছি না। চুলা জ্বালানোর মতো অবস্থাও নেই। হাঁটতেও পারি না, সবজায়গায় পানি। কী করব বুঝতে পারছি না।”
অন্য এক বাসিন্দা, কৃষক ফরিদুল ইসলাম জানান,
“বাড়ির ভেতরে হাঁটু পরিমাণ পানি। গবাদিপশুগুলো বাঁধার জায়গা নেই। এখন তো আবার পানির সঙ্গে আসে সাপ-বিচ্ছু। খুব ভয়ে থাকি আমরা।”
এলাকার স্কুলগামী শিক্ষার্থীরাও পড়াশোনার বাইরে চলে গেছে। পানিতে ডুবে যাওয়ায় শিক্ষার্থীরা স্কুলে যেতে পারছে না। এক শিক্ষার্থীর অভিভাবক জানান,
“শুধু খাবারের কষ্ট না, আমার ছেলেটা স্কুলে যেতে পারছে না। পড়ালেখা তো বন্ধই হয়ে গেল।”
পানিবন্দী অবস্থায় দীর্ঘদিন থাকার ফলে পানিবাহিত রোগ, সাপের ভয়, ত্বকের রোগসহ নানা ধরনের স্বাস্থ্যঝুঁকিতে পড়েছেন গ্রামবাসী। ইতোমধ্যে ডায়রিয়া ও চর্মরোগে আক্রান্ত কয়েকজনকে স্থানীয়ভাবে চিকিৎসা দিতে হয়েছে।
বাড়ি থেকে বের হওয়া কঠিন হওয়ায় চিকিৎসা সেবা পাওয়াও কঠিন হয়ে পড়েছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, রলফা গ্রামে কোনো ধরনের পানি নিষ্কাশনের স্থায়ী ব্যবস্থা নেই। প্রতিবছর বর্ষা এলেই এমন জলাবদ্ধতায় পড়তে হয় তাদের। বহুবার স্থানীয় প্রশাসনের দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলেও কোনো কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া হয়নি।
একজন বৃদ্ধ গ্রামবাসী কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন,
“এই ভোগান্তি কি আমাদের কপালেই লিখা? ছোট ছোট বাচ্চারা অসুস্থ হচ্ছে, আর আমরা কিছুই করতে পারছি না। আমরা চাই সরকার আমাদের দিকে একটু তাকাক।”
এই মুহূর্তে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর জন্য খাদ্য, বিশুদ্ধ পানি, ওষুধ এবং ত্রাণ সহায়তা অত্যন্ত জরুরি। পাশাপাশি একটি স্থায়ী ড্রেনেজ ব্যবস্থার জন্য প্রকল্প গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন এলাকাবাসী।
গ্রামবাসীর প্রত্যাশা—প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট দপ্তর দ্রুত রলফার পরিস্থিতি পরিদর্শন করে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করবে।
মন্তব্য