নাটোর শহরের লালবাজার কদমতলার রবি সূতম সংঘ এবার দুর্গাপূজায় দর্শনার্থীদের জন্য এক ভিন্নমাত্রার চমক এনেছে। এই সংঘের উদ্যোগে তৈরি হয়েছে পাটের আঁশে মোড়ানো দুর্গাপ্রতিমা, যা ইতোমধ্যেই ব্যাপক প্রশংসা কুড়িয়েছে।
শিল্পীর নিপুণ হাতে তৈরি এই অনন্য প্রতিমা দেখতে ষষ্ঠীর দিন থেকেই ভক্তদের উপচে পড়া ভিড় দেখা যাচ্ছে মণ্ডপে।
প্রতিমা তৈরির দায়িত্বে ছিলেন নাটোরের খ্যাতিমান প্রতিমাশিল্পী বিশ্বজিৎ পাল। গত বছর যিনি ধান দিয়ে প্রতিমা তৈরি করে দেশ-বিদেশে সাড়া ফেলেছিলেন। এবার রবি সূতম সংঘের অনুরোধে তিনি তৈরি করলেন সোনালি আঁশ পাট দিয়ে মোড়ানো দুর্গা প্রতিমা।
সংঘের সাধারণ সম্পাদক পার্থ রায় জানান, প্রতিবছর তাঁরা ব্যতিক্রমী চিন্তাভাবনার প্রতিমা নির্মাণে বিশ্বাসী। এ বছর প্রায় ছয় মাস আগে থেকেই পাট দিয়ে প্রতিমা তৈরির পরিকল্পনা শুরু হয়। শিল্পী বিশ্বজিৎ পাল সেই ভাবনাকে বাস্তবে রূপ দিতে দুই মাস ধরে কাঠ, বাঁশ, মাটি ও বিশেষভাবে বাছাইকৃত উজ্জ্বল সোনালি রঙের পাটের আঁশ ব্যবহার করে কাজ শুরু করেন।
প্রতিমা তৈরিতে ব্যবহার হয়েছে প্রায় ২০ কেজি পাট। প্রতিমার কাঠামো তৈরির পর পাটের সূক্ষ্ম আঁশ দিয়ে বুনন করা হয় মূর্তি। শাড়ি, অলংকার, সিংহ, অসুর সহ সমস্ত উপাদানেই ব্যবহার করা হয়েছে পাটের তৈরি কারুকাজ। কাজ শেষ হয় সপ্তমীর আগের রাতে।
ষষ্ঠীর দিন প্রতিমা দর্শনে আসা সদর উপজেলার শংকরভাগ গ্রামের প্রদীপ চক্রবর্তী (৬৫) বলেন,জীবনে অনেক প্রতিমা দেখেছি, কিন্তু পাট দিয়ে গড়া এমন প্রতিমা আগে কখনো দেখিনি। একেবারে অন্যরকম লেগেছে। আমি আবার নাতি-নাতনিদের নিয়ে সপ্তমীর দিন আসব।
সিরাজগঞ্জের উল্লাপাড়া থেকে আসা অঞ্জলি রাণী বলেন, প্রতিবছরই এই মণ্ডপে নতুন কিছু থাকে, তাই এবার ভিড় এড়াতে ষষ্ঠীর দিনই চলে এসেছি। সময় নিয়ে কাছ থেকে দেখেছি। অসাধারণ লেগেছে।
শিল্পী বিশ্বজিৎ পাল বলেন,”পাট দিয়ে কাজ করাটা সহজ ছিল না। প্রতিমার গড়ন তৈরির পর শুকিয়ে সেটি পাটে মোড়ানো হয়। এরপর রঙ-তুলিতে প্রতিমার মুখ, চোখ এবং অন্যান্য সূক্ষ্মতা ফুটিয়ে তোলা হয়। প্রায় দুই মাসের পরিশ্রমে এই প্রতিমা শেষ করেছি। আশা করি, সবাই মুগ্ধ হবেন।
এ বছর নাটোর জেলায় মোট ৩৬৮টি মন্দির ও মণ্ডপে দুর্গাপূজা অনুষ্ঠিত হচ্ছে, যা গত বছরের তুলনায় ১৪টি বেশি। জেলা পূজা উদ্যাপন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি খগেন্দ্রনাথ রায় জানিয়েছেন, “সব মণ্ডপেই এবার নিরাপত্তা নিশ্চিতে সিসিটিভি ক্যামেরা বসানো হয়েছে।”
মন্তব্য